• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

এক ছক্কায় সব জবাব

সিসি নিউজ, ১৭ মার্চ: উত্তেজনার সব রং-রূপ ধরা পড়লো আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের ম্যাচে। কী ছিল না। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোমাঞ্চের সব উপাদান হাজির ছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে। তবে শেষের উত্তেজনা ছাড়িয়ে গেছে সবকিছুকে। বিতর্কিত আম্পায়ারিং, নুরুল হাসান-কুশল মেন্ডিসের কথার লড়াই, সাকিবের মাঠ ছেড়ে আসার ইঙ্গিত- সব বিতর্কের জবাব মিললো মাহমুদউল্লাহর এক ছক্কায়।

শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১২ রান। প্রথম দুই বলে ডট ও মোস্তাফিজের আউটে ৪ বলে দরকার পড়ে ১২ রান। জমে যাওয়া উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢালে ইসুরু উদানার পরপর দুটি বাউন্স। মোস্তাফিজের মাথার ওপর দিয়ে বল যাওয়ার পরও কেন ‘নো’ বল ডাকা হলো না, তা নিয়ে বেঁধে যায় দ্বন্দ্ব। অবস্থা এতটাই গুরুতর হয়ে পড়েছিল যে, সাকিব খেলাই বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন!

ক্রিজে আশার শেষ প্রদীপ হয়ে জ্বলে থাকা মাহমুদউল্লাহ অবশ্য অধিনায়কের ডাকে সাড়া দেননি। মনে বিশ্বাস থাকলে নাকি সব বাধা ডিঙানো যায়- কথাটা কতটা সত্যি, তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ দিলেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ ২ বলে যখন দরকার ৬ রান, ওই মুহূর্তে বাঘের গর্জন তুলে উদানার বল নিয়ে ফেললেন গ্যালারিতে। ব্যস, ওই এক শটেই সব জবাব দেওয়া হয়ে গেল বাংলাদেশের।

ততক্ষণে বাধভাঙা আনন্দে মাতোয়ারা টাইগাররা। একজন আরেকজনের গায়ের ওপর লাফিয়ে উঠছে, সেই সঙ্গে চললো শ্রীলঙ্কা ও ‘বাজে’ আম্পায়ারিংয়ের জবাব দেওয়ার পর্ব। তবে তখনও শেষ হয়নি কুশল মেন্ডিস-নুরুলের কথার লড়াই। তেড়ে যাচ্ছিলেন একজন আরেকজনের দিকে। পরিস্থিতি সামাল দিলেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। মাঠ থেকে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার পর ওই উত্তাপের আঁচ কমলেও বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য স্মৃতিতে বাঁধিয়ে রাখার মতোই এক ম্যাচ মঞ্চায়িত হলো আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

বিতর্কিত আম্পায়ারিং আরেকবার থাবা মারলো বাংলাদেশের ক্রিকেটের গায়ে। ম্যাচের অমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হঠাৎ কী এমন হলো যে সাকিব খেলাই ছেড়ে দিতে চাইলেন? উত্তর মিলেছে তামিম ইকবালের কথায়। টানা দুটি বাউন্স দেওয়ায় লেগ আম্পায়ার নাকি ‘নো’ ডেকেছিলেন, কিন্তু অন্যপ্রান্তে থাকা আরেক আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে কেন এমন আম্পায়ারিং, সেই ক্ষোভ থেকেই ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সাকিব।

গত কয়েক বছরে ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল হওয়ার পরও আরেকবার বিতর্কিত আম্পায়ারিংয়ের শিকার বাংলাদেশ। সেটাই হয়তো আরও খেপিয়ে দিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ। বিশাল এক ছক্কায় মনের সব ক্ষোভ মেটালেন তিনি। যে ছক্কায় আনন্দের স্রোতে ভাসলো ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ